Friday, 30 June 2017

ভালো মানুষের গল্প

[ সৎ মানুষ দেখতে চান,তাহলে পড়ুন]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
$ সার্থক ভ্রমন $
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
জানাশোনা গন্ডির মধ্যে সৎ মানুষকে দুরবীন দিয়ে দেখতে হয় ৷ হতাশ হয়ে ভাবি দুনিয়াতে সততা কল্পনা মাত্র ৷ আমাদের জানাশোনা গন্ডি বলতে বাংলা আর বাঙালী ৷ আর আজকের বাঙালী "হায় বাঙালী হায়, তুই আর বাঙালী নাই"৷

বাংলার বাইরে চোখ মেলার ইচ্ছা নিয়ে ভ্রমনে গিয়েছিলাম ভাইজাক। একরাশ উৎকন্ঠা নিয়ে ইস্ট-কোষ্ট এক্সপ্রেস থেকে রাত্রিতে নামলাম বিশাখাপত্তনম স্টেশনে৷ দেবদূতের মত এক ড্রাইভার এসে হাজির৷ পৌঁছে গেলাম হোটেলে৷

সকাল হতেই ড্রাইভার ছেলেটা এসে হাজির, সঙ্গে গাড়ীর মালিক ৷ দুদিন ধরে সব সাইডসিন দেখিয়ে দেবে৷ রেট জানিয়ে ফোন নং দিয়ে গেল৷ দু-এক জায়গায় যাচাই করে দেখলাম, রেট প্রায় সবারই এক৷ শেষ মেষ তাদেরকেই ফোন করে ডেকে নিলাম ৷

ড্রাইভারটা প্রায় তিন দিন নিকট আত্মীয়র মত আমাদের সঙ্গ দিল৷ কোথায় সবথেকে ভাল ইডলি ধোসা পাওয়া যায় সেখানে নিয়ে যাওয়া, খাওয়ার জল এনে দেওয়া, বিশাখাপত্তনম বন্দরে গিয়ে মাছ কিনে দেওয়া, এমনকি একজন বাঙালী লোকও খুঁজে দিল৷ মাছ আর তেল কিনে দিতে সেই বাঙালী ভদ্রলোক বাড়ী থেকে মাছ ভাজা করে এনে দিলেন৷ রাত্রিতে আমরা শুতে গেলে তারপর সে বাড়ি যেত৷

বিবেকের তাড়নায় দ্বিতীয় দিনে তাকে জিঞ্জাসা করলাম ভাইসাব আমরা আপনাকে এত খাটাচ্ছি, নিজেদের খারাপ লাগছে৷ সে বলল - কোনও ব্যাপার নয়, সে খুশী মনেই করছে৷ তবু মনটা খুঁত খুঁত করতো ৷ আমাদের সাথে খেতে বললেও খায় না৷ দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় সে বলল "দাদা গাড়ীর তেলটা একটু কম আছে কিছু পয়সা দিন তেলটা ভরে নিই৷ পরে ভাড়া থেকে বাদ দিয়ে দেবেন"৷ সরল মনে দিয়েও দিলাম৷

সূচিমত বেড়ানোর সময় শেষ৷ ড্রাইভার আমাদের স্টেশনে নামিয়ে দিল৷ আমি তাকে ৫০০ টাকা বকশিস দিতে গেলাম৷ সে আমাকে অবাক করে বলল "ইতনা জাদা নেহি , ২০০ রুপিয়া দে দিজিয়ে"৷ অবাক হয়ে গেলাম৷ আমি ২০০ টাকাই দিলাম৷ সে হাসি মুখে চলে গেল৷

লেখাটা একানেই শেষ হতে পারত, কিন্তু অবাক হবার পালা এখনও বাকী ছিল৷ বিশাখাপত্তনম স্টেশানে বসে আছি ৷ নির্ধারিত সময়ের ট্রেন আসতে এক ঘন্টার মত বাকী৷ তখন মনে পড়ল এই রে, চুক্তিমত গাড়ী ভাড়া তো দিয়েছি, কিন্তু রাস্তায় তেল ভরতে যে ৫০০ টাকা দিয়েছিলাম সেটা তো বাদ দেওয়া হয় নি৷

সঙ্গী সাথীরা সবাই আমার বোকামোর জন্য ধিক্কার দিতে লাগল৷ আমি সত্যিই বোকা৷ নিজেরও খারাপ লাগতে লাগল৷ কারন ট্যুরের ম্যানেজার আমি৷ আমি বোকার মতই গাড়ীর মালিককে ফোন লাগালাম৷ তিনি আমাদের ট্রেনের সময় ও প্লাটফর্ম নং জেনে নিলেন৷

ট্রেন আসার ঠিক আগের মুহুর্তে মালিক নিজে এসে আমাদের ৫০০ টাকা ফিরে দিয়ে গেলেন৷ ট্রেন এসে গেল৷ ফিরে এলাম কলকাতায়৷ বেড়ানোর স্মৃতি ছাপিয়ে সেই ড্রাইভার ও গাড়ি মালিকের স্মৃতি আমার মনের মনিকোঠায় সারা জীবনের জন্য রয়ে গেছে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

No comments:

Post a Comment