(এটা শুধুই গল্প। বাস্তবের সাথে মিল খুঁজে লাভ নেই এবং কেউ রাজনৈতিক মন্তব্য করবে/ করবেন না প্লিজ)
## র্যাঞ্চো রাজা ও নতুন ভোর ##
কোনো এক সময়ে এক ভীষণ বিশৃঙ্খল রাজ্য ছিল৷ যেখানে মারামারি, কাটাকাটি, লেগেই থাকে৷ শান্তি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন নতুন রাজা আসে আর যায়৷ সবাই যেমন খুশি ভোগ করে কেটে পড়ে৷ প্রজারা সেই হিংসা হানানানি করেই মরে৷
রাজ্যের শান্তিপ্রিয় প্রজারা শেষমেষ চুপচাপ থাকতে পারলো না৷ সবাই জোটবদ্ধ হয়ে ঠিক করল, রাজ্যের মধ্যে একটা সীমারেখা টানা হবে৷ সেই রেখার একদিকে থাকবে শান্তিপ্রিয় প্রজারা আর অন্যদিকে খুনী আসামী, গুন্ডা, মস্তান ইত্যাদিরা৷ শান্তিপ্রিয় অংশে কারও রক্তের নেশা উঠলে তাকে সীমারেখার ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷
এ তো গেল প্রজাদের জন্য। রাজাদের নিয়ম করা হল দশ বছরের জন্য রাজাকে নির্বাচিত করা হবে৷ সেই রাজা শাসনকালে যা ইচ্ছে করতে পারবে। প্রজাদের কাছে তাকে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে করের টাকা ইচ্ছামত খরচ বা ভোগ করতে পারবে। কিন্তু ক্ষমতা চলে গেলে রাজার ঠিকানা হবে খুনী আসামী, গুন্ডা, মস্তানদের মাঝে।
দশবছর পর রাজ্যে রাজা হবার জন্য লম্বা লাইন পড়ত৷ গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজা নির্বাচিত হবার পর রাজা শপথ নিত মহা ধুমধাম করে। আবার যেদিন তার দিন ফুরিয়ে যেত, সেদিন তার হাত-পা বেঁধে একই রকম ধুমধাম করে রেখে আসা হতো গুন্ডা মস্তানদের মাঝে। সেখানে রাজার কী পরিণতি হত সে খবর কেউ জানতে পারত না৷
এভাবেই শত শত বছর চলছিল ক্ষমতার পালাবদল। কিন্তু এক সময় দেশটিতে রাজার আকাল পড়ল। দিনে দিনে জানাজানি হয়ে গেল মেয়াদ ফুরানোর পর রাজার দূর্দশার কথা৷ গুন্ডা মস্তানদের এলাকায় একদা রাজাকে যে যা পারে গালাগাল দিত। প্রকাশ্যে চড় থাপ্পড়, এমনকি জুতোপেটা পর্যন্ত করত৷ রাজার বউ ছেলে-মেয়ে আতঙ্কে বাইরে বের হতে পারত না। কেউ কেউ রাজার বাড়ির দরজায় মলত্যাগ করে আসত ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এসব জানাজানি হওয়ার পর এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যে, কেউ আর সেই রাজ্যে রাজা হতে চাইল না।
এ অবস্থায় প্রজারা রাজা খুঁজতে বিজ্ঞাপন দিল৷ রাজা হওয়ার ইচ্ছা অনেকেরই ছিল কিন্তু দশবছর পরের কথা ভেবে সবাই পিছিয়ে যায়৷ বড় বড় গোঁফওয়ালা, হিম্মতওয়ালা, টিভি চ্যানেলে বাঘমারা লোকেদের হাতে পায়ে ধরা হল কিন্তু কেউ রাজা হতে রাজি হল না৷
শেষমেষ থ্রি ইডিয়টের র্যাঞ্চো মার্কা এক যুবক রাজা হতে রাজি! যথারীতি ধুমধাম করে হয়ে গেল রাজার শপথ গ্রহণ৷ রাজ্যটা আবার গড়গড়িয়ে চলতে লাগল৷ অন্য রাজাদের মতই র্যাঞ্চো রাজা যেমন খুশি চলে, কোষাগার থেকে রাশি রাশি টাকা ব্যয় করে৷ ভোগ বিলাসে জীবন কাটায়৷ রাজার শত্রুরা মনে মনে হাসে৷ মাত্র দশটা তো বছর৷ তার পর শুরু হবে লাথি ঝাঁটার জীবন!
যাইহোক, দেখতে দেখতে র্যাঞ্চো রাজা তার দশ বছরের শাসন পূর্ণ করল। প্রথামাফিক মেয়াদ পূর্তির দিনে সবাই শোভাযাত্রা করে চলল রাজাকে নির্বাসন দিতে। এই সময়ে একটা ব্যাপার দেখে সবাই অবাক! আগে প্রত্যেক রাজাকে বেঁধে নিয়ে যেতে হত৷ কেউ স্বেচ্ছায় যেতে চাইত না। কিন্তু এই রাজা হাসতে হাসতে চলেছে৷ শোভাযাত্রা যখন গুন্ডাদের এলাকায় প্রবেশ করল তখন সবার চক্ষু ছানাবড়া! চারিদিকে ঝাঁ চকচকে রাস্তা। রাস্তার ধারে বড় বড় গাছ৷ চারিদিকে স্কুল, কলেজ হাসপাতাল৷ বড় বড় কারখানা। ছেলেরা স্কুলে যাচ্ছে। যুবক যুবতীরা গাছের ছায়ায় প্রেম করছে। লোকজন সদা ব্যস্ত৷
জানাগেল সিংহাসনে বসে প্রথমদিনই র্যাঞ্চো রাজা মনোযোগ দিয়েছিল হিংসা কবলিত জায়গাটির উন্নয়নের দিকে। বিদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার, কারিগর ও যন্ত্রপাতি আমদানি করে সে হিংসা ক্ষেত্রকে শস্যক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে স্থানে পুকুর, খাল ও নিজের বসবাসের জন্য বিশাল এক প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল।
রাজা একটি কথা সব সময় মনে রেখেছিল, দশ বছরের শাসনকাল সে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে কাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সে তা করেনি। ওই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সে তাঁর মেয়াদকাল কিংবা তার পরবর্তী সময়কে আরামদায়ক বানিয়েছিল। র্যাঞ্চো রাজার এই চিন্তা ভাবনা রাজ্যটাকে হিংসা মুক্ত করে এক নতুন ভোর এনে দিয়েছিল।
## র্যাঞ্চো রাজা ও নতুন ভোর ##
কোনো এক সময়ে এক ভীষণ বিশৃঙ্খল রাজ্য ছিল৷ যেখানে মারামারি, কাটাকাটি, লেগেই থাকে৷ শান্তি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন নতুন রাজা আসে আর যায়৷ সবাই যেমন খুশি ভোগ করে কেটে পড়ে৷ প্রজারা সেই হিংসা হানানানি করেই মরে৷
রাজ্যের শান্তিপ্রিয় প্রজারা শেষমেষ চুপচাপ থাকতে পারলো না৷ সবাই জোটবদ্ধ হয়ে ঠিক করল, রাজ্যের মধ্যে একটা সীমারেখা টানা হবে৷ সেই রেখার একদিকে থাকবে শান্তিপ্রিয় প্রজারা আর অন্যদিকে খুনী আসামী, গুন্ডা, মস্তান ইত্যাদিরা৷ শান্তিপ্রিয় অংশে কারও রক্তের নেশা উঠলে তাকে সীমারেখার ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷
এ তো গেল প্রজাদের জন্য। রাজাদের নিয়ম করা হল দশ বছরের জন্য রাজাকে নির্বাচিত করা হবে৷ সেই রাজা শাসনকালে যা ইচ্ছে করতে পারবে। প্রজাদের কাছে তাকে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে করের টাকা ইচ্ছামত খরচ বা ভোগ করতে পারবে। কিন্তু ক্ষমতা চলে গেলে রাজার ঠিকানা হবে খুনী আসামী, গুন্ডা, মস্তানদের মাঝে।
দশবছর পর রাজ্যে রাজা হবার জন্য লম্বা লাইন পড়ত৷ গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজা নির্বাচিত হবার পর রাজা শপথ নিত মহা ধুমধাম করে। আবার যেদিন তার দিন ফুরিয়ে যেত, সেদিন তার হাত-পা বেঁধে একই রকম ধুমধাম করে রেখে আসা হতো গুন্ডা মস্তানদের মাঝে। সেখানে রাজার কী পরিণতি হত সে খবর কেউ জানতে পারত না৷
এভাবেই শত শত বছর চলছিল ক্ষমতার পালাবদল। কিন্তু এক সময় দেশটিতে রাজার আকাল পড়ল। দিনে দিনে জানাজানি হয়ে গেল মেয়াদ ফুরানোর পর রাজার দূর্দশার কথা৷ গুন্ডা মস্তানদের এলাকায় একদা রাজাকে যে যা পারে গালাগাল দিত। প্রকাশ্যে চড় থাপ্পড়, এমনকি জুতোপেটা পর্যন্ত করত৷ রাজার বউ ছেলে-মেয়ে আতঙ্কে বাইরে বের হতে পারত না। কেউ কেউ রাজার বাড়ির দরজায় মলত্যাগ করে আসত ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এসব জানাজানি হওয়ার পর এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যে, কেউ আর সেই রাজ্যে রাজা হতে চাইল না।
এ অবস্থায় প্রজারা রাজা খুঁজতে বিজ্ঞাপন দিল৷ রাজা হওয়ার ইচ্ছা অনেকেরই ছিল কিন্তু দশবছর পরের কথা ভেবে সবাই পিছিয়ে যায়৷ বড় বড় গোঁফওয়ালা, হিম্মতওয়ালা, টিভি চ্যানেলে বাঘমারা লোকেদের হাতে পায়ে ধরা হল কিন্তু কেউ রাজা হতে রাজি হল না৷
শেষমেষ থ্রি ইডিয়টের র্যাঞ্চো মার্কা এক যুবক রাজা হতে রাজি! যথারীতি ধুমধাম করে হয়ে গেল রাজার শপথ গ্রহণ৷ রাজ্যটা আবার গড়গড়িয়ে চলতে লাগল৷ অন্য রাজাদের মতই র্যাঞ্চো রাজা যেমন খুশি চলে, কোষাগার থেকে রাশি রাশি টাকা ব্যয় করে৷ ভোগ বিলাসে জীবন কাটায়৷ রাজার শত্রুরা মনে মনে হাসে৷ মাত্র দশটা তো বছর৷ তার পর শুরু হবে লাথি ঝাঁটার জীবন!
যাইহোক, দেখতে দেখতে র্যাঞ্চো রাজা তার দশ বছরের শাসন পূর্ণ করল। প্রথামাফিক মেয়াদ পূর্তির দিনে সবাই শোভাযাত্রা করে চলল রাজাকে নির্বাসন দিতে। এই সময়ে একটা ব্যাপার দেখে সবাই অবাক! আগে প্রত্যেক রাজাকে বেঁধে নিয়ে যেতে হত৷ কেউ স্বেচ্ছায় যেতে চাইত না। কিন্তু এই রাজা হাসতে হাসতে চলেছে৷ শোভাযাত্রা যখন গুন্ডাদের এলাকায় প্রবেশ করল তখন সবার চক্ষু ছানাবড়া! চারিদিকে ঝাঁ চকচকে রাস্তা। রাস্তার ধারে বড় বড় গাছ৷ চারিদিকে স্কুল, কলেজ হাসপাতাল৷ বড় বড় কারখানা। ছেলেরা স্কুলে যাচ্ছে। যুবক যুবতীরা গাছের ছায়ায় প্রেম করছে। লোকজন সদা ব্যস্ত৷
জানাগেল সিংহাসনে বসে প্রথমদিনই র্যাঞ্চো রাজা মনোযোগ দিয়েছিল হিংসা কবলিত জায়গাটির উন্নয়নের দিকে। বিদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার, কারিগর ও যন্ত্রপাতি আমদানি করে সে হিংসা ক্ষেত্রকে শস্যক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে স্থানে পুকুর, খাল ও নিজের বসবাসের জন্য বিশাল এক প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল।
রাজা একটি কথা সব সময় মনে রেখেছিল, দশ বছরের শাসনকাল সে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে কাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সে তা করেনি। ওই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সে তাঁর মেয়াদকাল কিংবা তার পরবর্তী সময়কে আরামদায়ক বানিয়েছিল। র্যাঞ্চো রাজার এই চিন্তা ভাবনা রাজ্যটাকে হিংসা মুক্ত করে এক নতুন ভোর এনে দিয়েছিল।