## বন্ধন ##
বড়লোক বাড়ির মেয়ে রমলা। রাজরাণী হয়ে থাকার কথা। তা না, কোথাকার এক ভিখারীকে বিয়ে করে পাটরাণী হয়ে গেল! রমলার বাবা ভাবলেন অগাধ সম্পত্তির লোভে তার মেয়েকে ফাঁসিয়েছে হা-ভাতে ঘরের ছেলে দিব্যেন্দু। মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু রমলা বুঝতে চায়নি। সাবালিকা মেয়ে, কিছু করতেও পারেননি। শুধু মেয়ের সাথে সব সম্পর্ক ত্যাগ করেছিলেন।
লোকে বলে, বাড়ির অমতে বিয়ে করে রমলার কপাল পুড়েছে। রমলার কষ্টে এক অবর্ণনীয় আত্মসুখ লাভ করে তার বাপের বাড়ির লোকজন । দিব্যেন্দু শেষ অব্দি সরকারি চাকরি পায়নি। তাই বলে জীবন তো থেমে থাকে না। এক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে সে। বর্তমানে এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার।
বড়লোক বাড়ির মেয়ে রমলা। রাজরাণী হয়ে থাকার কথা। তা না, কোথাকার এক ভিখারীকে বিয়ে করে পাটরাণী হয়ে গেল! রমলার বাবা ভাবলেন অগাধ সম্পত্তির লোভে তার মেয়েকে ফাঁসিয়েছে হা-ভাতে ঘরের ছেলে দিব্যেন্দু। মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু রমলা বুঝতে চায়নি। সাবালিকা মেয়ে, কিছু করতেও পারেননি। শুধু মেয়ের সাথে সব সম্পর্ক ত্যাগ করেছিলেন।
লোকে বলে, বাড়ির অমতে বিয়ে করে রমলার কপাল পুড়েছে। রমলার কষ্টে এক অবর্ণনীয় আত্মসুখ লাভ করে তার বাপের বাড়ির লোকজন । দিব্যেন্দু শেষ অব্দি সরকারি চাকরি পায়নি। তাই বলে জীবন তো থেমে থাকে না। এক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে সে। বর্তমানে এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার।
বেসরকারি সংস্থার কাজকে চাকরি বললে সরকারি চাকরিকে অপমান করা হয়। জীবনের
সব রসটুকু নিংড়ে, ছিবড়ে হলে তবেই দাম পাওয়া যায়। দিব্যেন্দু তাই নিজের
জীবনের সব হাসি গান সব বিসর্জন দিয়েছে। সপ্তাহান্তে একটা দিন পরিবারের
সাথে কাটিয়ে আবার সে কর্মস্থলে ফিরে যায়। তবে এত বছরেও রমলার প্রতি তার
ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। অনেক বৈভব ছেড়ে এসেছে মেয়েটা। দিব্যেন্দু জানে,
এক জন্মে সেটা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। সম্ভব শুধু ভালবাসাটা বাঁচিয়ে রাখা।
তবে রমলার কাছে দিব্যেন্দুর একটাই দাবী ছিল,কোনও অবস্থাতেই সে যেন
বাবা-মা'র মুখাপেক্ষী না হয়।
দিব্যেন্দু-রমলার ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে। দু'জনকে পড়ানো, খাওয়ানো, ঘুম-পাড়ানো, দুজনের ঝগড়া, মারপিট, সবকিছুই নিপুণ হাতে সামাল দেয় রমলা। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে মেয়ে বলল, "মা রবিবার রাখীবন্ধন, বাপিকে বলে দাও একটা সুন্দর রাখী নিয়ে আসতে, ভাইকে পরাবো।" মেয়ের কথা শুনে রমলার মনে পড়ে গেল তার ছোট্ট বেলার কথা -সেবার রাখীবন্ধনের দিন ভাইয়ের সাথে কী ঝগড়া! রমলার ভাই ওর দামী দামী সাজের জিনিসগুলো নষ্ট করে খেলার জিনিস বানিয়েছিল। তাই দেখে রমলার মাথায় আগুন জ্বলে যায়, ভাইকে বলেছিল," তুই আমার ভাই নয়, আমার রাখী ফিরে দে।" ভাই তৎক্ষণাৎ হাতটা বাড়িয়ে বলেছিল, "নে তুই বেঁধেছিস, তুই খুলে নে।" না, খুলতে পারেনি রমলা শুধু রাগে কাঁদতে বলেছিল, "আমার কিছু দরকার নেই, নে, তুই সব নে"।
বিধাতা সেই রাগের কথাটা যে সত্যি ভেবে নেবে, রমলা বুঝতে পারেনি। মেয়ের কথা মত সে দিব্যেন্দুকে ফোন করে রাখী আনতে বলেছে। খুব সকালেই এসে যাবে সে। রাত্রিতে ছেলে-মেয়ে রমলাকে ধরেছিল, "মা, মা, রাখীবন্ধন কেন হয়? রমলা ওদের বলেছে-মা যশোদার কথা, অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে গোপালের হাতে রাখী বাঁধার কথা। বলেছে- দ্রৌপদীর কথা, রাখীবন্ধনের প্রতিদানে বলে ভগবান কৃষ্ণ কেমন করে দ্রৌপদীকে চরম লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। আর বলেছে - রবীন্দ্রনাথের কথা, কেমন করে কবিগুরু বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ভারতবাসীকে একসূত্রে বাঁধতে চেয়েছিলেন। সেই গল্প শুনতে শুনতে ছেলে-মেয়েরা ঘুমিয়ে পড়ে। শুধু রমলার হৃদয়ের গোপন অলিন্দ এক অসীম শূন্যতা অনুভব করতে থাকে।
দিব্যেন্দু বাড়ি ফিরেছে। বাবার আগমনে সন্তানদের চিরচারিত আনন্দে মুখরিত অভাবী সংসারটা। দিব্যেন্দু শুধু কাল থেকে ভাবছে রমলা হঠাৎ দুটো রাখি আনতে বলল কেন? তবে কী? না না....... সে ভাবনা অমূলক। সন্দেহটাকে সে বাড়তে দেয়নি।
যথারীতি সকালে ওদের মেয়ে গর্বিত চঞ্চলতায় ভাইয়ের হাতে রাখী পরিয়ে দিল। মহাপাকা ভাই দিদিকে বলল,"আমিও তোকে ভগবান কৃষ্ণের মত রক্ষা করব"। না হেসে পারল না দিব্যেন্দু। হাসল না রমলা, মেয়েকে বলল,"চল তো মা শাঁখটা একটু বাজিয়ে দিবি, তুলসীগাছে আমি একটা রাখী বাঁধব।"
দিব্যেন্দু-রমলার ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে। দু'জনকে পড়ানো, খাওয়ানো, ঘুম-পাড়ানো, দুজনের ঝগড়া, মারপিট, সবকিছুই নিপুণ হাতে সামাল দেয় রমলা। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে মেয়ে বলল, "মা রবিবার রাখীবন্ধন, বাপিকে বলে দাও একটা সুন্দর রাখী নিয়ে আসতে, ভাইকে পরাবো।" মেয়ের কথা শুনে রমলার মনে পড়ে গেল তার ছোট্ট বেলার কথা -সেবার রাখীবন্ধনের দিন ভাইয়ের সাথে কী ঝগড়া! রমলার ভাই ওর দামী দামী সাজের জিনিসগুলো নষ্ট করে খেলার জিনিস বানিয়েছিল। তাই দেখে রমলার মাথায় আগুন জ্বলে যায়, ভাইকে বলেছিল," তুই আমার ভাই নয়, আমার রাখী ফিরে দে।" ভাই তৎক্ষণাৎ হাতটা বাড়িয়ে বলেছিল, "নে তুই বেঁধেছিস, তুই খুলে নে।" না, খুলতে পারেনি রমলা শুধু রাগে কাঁদতে বলেছিল, "আমার কিছু দরকার নেই, নে, তুই সব নে"।
বিধাতা সেই রাগের কথাটা যে সত্যি ভেবে নেবে, রমলা বুঝতে পারেনি। মেয়ের কথা মত সে দিব্যেন্দুকে ফোন করে রাখী আনতে বলেছে। খুব সকালেই এসে যাবে সে। রাত্রিতে ছেলে-মেয়ে রমলাকে ধরেছিল, "মা, মা, রাখীবন্ধন কেন হয়? রমলা ওদের বলেছে-মা যশোদার কথা, অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে গোপালের হাতে রাখী বাঁধার কথা। বলেছে- দ্রৌপদীর কথা, রাখীবন্ধনের প্রতিদানে বলে ভগবান কৃষ্ণ কেমন করে দ্রৌপদীকে চরম লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। আর বলেছে - রবীন্দ্রনাথের কথা, কেমন করে কবিগুরু বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ভারতবাসীকে একসূত্রে বাঁধতে চেয়েছিলেন। সেই গল্প শুনতে শুনতে ছেলে-মেয়েরা ঘুমিয়ে পড়ে। শুধু রমলার হৃদয়ের গোপন অলিন্দ এক অসীম শূন্যতা অনুভব করতে থাকে।
দিব্যেন্দু বাড়ি ফিরেছে। বাবার আগমনে সন্তানদের চিরচারিত আনন্দে মুখরিত অভাবী সংসারটা। দিব্যেন্দু শুধু কাল থেকে ভাবছে রমলা হঠাৎ দুটো রাখি আনতে বলল কেন? তবে কী? না না....... সে ভাবনা অমূলক। সন্দেহটাকে সে বাড়তে দেয়নি।
যথারীতি সকালে ওদের মেয়ে গর্বিত চঞ্চলতায় ভাইয়ের হাতে রাখী পরিয়ে দিল। মহাপাকা ভাই দিদিকে বলল,"আমিও তোকে ভগবান কৃষ্ণের মত রক্ষা করব"। না হেসে পারল না দিব্যেন্দু। হাসল না রমলা, মেয়েকে বলল,"চল তো মা শাঁখটা একটু বাজিয়ে দিবি, তুলসীগাছে আমি একটা রাখী বাঁধব।"
No comments:
Post a Comment