Tuesday, 18 September 2018

(শেষে একটু ভাববেন, তারপর হাসবেন)
## মুছে যাওয়া দিনগুলি ##
আমাদের বিদকুটে বন্ধু দলে সবচেয়ে ডানপিটে ছেলে ছিল ক্যাবলা৷ হাট্টা গোট্টা লোহা পেটানো শরীর৷ শরীরে অসুরের শক্তি। ভক্তিতে হনুমান৷ আর হনুমানের যা গুন, তখন পর্যন্ত এমন কোনও গাছের জন্ম হয়নি যেটাতে ক্যাবলা উঠতে পারত না!
দুর্গা পুজোর সময় বাড়ির টাইট একটু কম থাকে। লুজ পেয়ে অনেক রাত পর্যন্ত দূর্গা মন্ডপে আড্ডা মারতাম৷ বারবার দেখতাম কেমন করে দশভূজা সেজে উঠছে, প্যান্ডেলের কী ডিজাইন হচ্ছে। তেমনই এক পুজোতে পঞ্চমীর দিন আমাদের মাথায় বদ বুদ্ধি চাপল, "চল্ ডাব চুরি করতে যাই৷" যেমন ভাবা তেমন কাজ৷ গেছো ক্যাবলাকে নিয়ে গেলাম ডাব চুরি করতে৷
জায়গাটা অন্ধকার, গাছের নিচে গুল্মের ঝোপ ঝাড়৷ এদিকে গাছের পাশেই আমাদের পরিচিত কানাইদার দোতলা বাড়ি৷ দেখলাম দোতলার জানালা হাট করে খোলা৷ ভিতরে নাইট ল্যাম্প জ্বলছে৷ ভয় হচ্ছিল কানাইদা যদি জেগে থাকে, যদি দেখে ফেলে। জানালা দিয়ে ডাবগাছের মাথাটা তো ভালভাবেই দেখা যাবে! কেউ কোনও কথা বললাম না৷ দড়ি আর কাটারি নিয়ে ক্যাবলা গাছে উঠে পড়ল। আমরা নিচে৷
বসে আছি তো বসেই আছি৷ ক্যাবলা সেই যে উঠল গাছে, আর কোনও সাড়া শব্দ নেই৷ ঘন অন্ধকারে ডাব গাছের মাথা দেখা যাচ্ছে না৷ শুধু কানইদার দোতলা ঘরের নাইট ল্যাম্প হাজার ওয়াট হয়ে জ্বলছে৷ আমরা সাত-পাঁচ ভাবছি কি হল ছেলেটার? জোরে ডাকতেও পারছি না৷ এমন সময় কয়েকজন লোক গল্প করতে করতে আমাদের দিকে আসছে দেখে আমরা তো পগার পার৷ ক্যাবলা রইল গাছের মাথায়৷
দাঁড়ান, নাটক শেষ হয়নি।
দূর্গা মন্ডপে ফিরে ভাবছি ক্যাবলার কোনও বিপদ হল না তো৷ শুনেছি ডাব গাছেও সাপ টাপ থাকে। পালিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি, আলো নিয়ে কয়েকজন বড় দাদাকে সঙ্গে করে আবার যাবো ঠিক করলাম। এমন সময় ক্যাবলা এসে হাজির! আমরা তো তাকে এই মারি, এই মারি, "শালা কতক্ষণ ধরে নীচে বসে আছি। ডাবের কাঁদি এই নামবে, এই নামবে আর, তোর শালা কোনও সাড়া শব্দ নেই৷"
তারপর সে যা বলেছিল তা আর লেখা যাবে না। শুধু এইটুকু বলি, কানাইদা ক্যাবলাকে দেখেনি। ক্যাবলা গাছে বসে দেখছিল কানাইদাকে। আর কানাইদার তখন মাস ছয়েক হল বিয়ে হয়েছে৷

No comments:

Post a Comment