Friday, 30 June 2017

ভুগোলের কথা

[ ] মানুষের পরিক্রমণ বা আর্থিক গতিঃ
সংসারে নিজের স্বার্থের জন্য অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে মানুষ একটি নির্দিষ্ট ধান্দায়, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে (ঘড়ির কাটার বিপরীতে) এবং সবসময়ে আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত জনের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করছে। মানুষের এই গতিকে আর্থিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে।

[ ] পরিক্রমণ গতিকে আর্থিক গতি বলার কারণঃ
আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত জনকে একবার করে প্রদক্ষিণ করতে মানুষের সময় লাগে সারা জীবন। এই সময় কালকে বলে ধান্দাবাজি। এইভাবে, আর্থিক গতির মাধ্যমে মানুষের চরিত্র নির্ধারিত হয় বলে আর্থিক গতির আর এক নাম সুবিধাবাদী গতি৷

[ ] পরিক্রমণের সময় মানুষের মেরুদন্ডের অবস্থানঃ
আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত জনকে পরিক্রমণের সময় মানুষের মেরুদন্ডটি তার মনুষ্যত্বের সঙ্গে সমকোণে না রেখে প্রায় ৬৬১/২0 কোণে ক্যালানো ভাবে অবস্থান করে। এর ফলে মনুষ্যজীবনের অর্ধেক সময় সুখের গোলার্ধ এবং বাকি সময় মানুষ দুখ্যের গোলার্ধের দিকে ৬৬১/২0 কোণে কাত হয়ে কেলিয়ে থাকে।

[ ] মহাঅর্থকর্ষঃ
এই মহাজগতের প্রতিটি মানুষই নিজের স্বার্থের জন্য পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে বা নিজের দিকে টানে, একেই মহাঅর্থকর্ষ বলে।

[ ] অর্থাকর্ষণ বলঃ
যে আকর্ষণ বলের প্রভাবে মানুষ তার মধ্যস্থিত প্রতিটি গুনাবলী ও শয়তানি নিজের ধান্দার দিকে আকর্ষণ করে, তাকে অর্থাকর্ষণ বল বলে।

[ ] মধুচক্রঃ
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনে ভোগ-বিলাস, পরশ্রীকাতরতা, অবৈধ সম্পর্ক, প্রৌঢ়ত্ব—এই চারটি চক্র পরপর আবির্ভূত হয়, একেই মধুচক্র বলে।

[ ] সুখ-দুখ্যের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণঃ
বিভিন্ন কারণে মানুষের সুখ-দুখ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। যেমন—(১) মানুষের জন্মগত হিংসাবৃত্তি (২) মানুষের স্বার্থপরতা ও আর্থিক গতি, (৩) মানুষের ধান্দাবাজীর কক্ষপথ, (৪)৬৬১/২০ কোণে ক্যালানো অবস্থান ইত্যাদি।

[ ] আর্থিকগতির ফলাফলঃ

বিভিন্ন কারণে মানুষের সুখ-দুখ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। যেমন—(১) মানুষের জন্মগত হিংসাবৃত্তি (২) মানুষের স্বার্থপরতা ও আর্থিক গতি, (৩) মানুষের ধান্দাবাজীর কক্ষপথ, (৪)৬৬১/২০ কোণে ক্যালানো অবস্থান ইত্যাদি।

গ্রাম্য জীবনের মজা

#ডাবচুরি#

লিচুচোর পড়েছেন৷ আরও কত প্রকার চোর দেখছেন৷ মাঝে মাঝে বৌ এর মানি ব্যাগ থেকে চুরিও করছেন৷ আজ একটা চুরির ঘটনা বলে আপনার কিছুটা সময় আমি চুরি করব৷

ঘটনা টা ডাবচুরির৷ সময়টা এখনের মতই গ্রীষ্মকাল৷ ফুটবল মাঠে খেলার এত ছেলে যে প্রতিদিনই ডার্বি৷ ফুটবলে আমি বাঁশ বনে শেয়াল৷ খেলার শেষে ক্লান্ত হয়ে মাঠের চার প্রান্তে চারটে কফি হাউস৷

আমার হাউস সেদিন ঠিক করল পালেদের গাছে আজ রাত্রিতে ডাব চুরি করা হবে৷ সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি ফেরার নিদান ছিল কিন্তু পুরুষত্ব জাগ্রত করে দিল বন্ধুদের বাক্যবান৷

যাই হোক, রাত্রি নয়টা নাগাদ সদলবলে চললাম আপারেশনে৷ ঘুটঘুটে অন্ধকার৷ গেছো দীলিপ উঠল গাছে৷ আমরা নীচে৷ দীলিপ গাছে উঠে থিতু হয়ে বসেছে এমন সময় কারা টর্চ জেলে ডাবগাছের দিকেই এগিয়ে এল৷

ভাবলাম গাছের মালিক নিশ্চই জানতে পেরেছে। আমরা যারা নীচে ছিলাম যে যেদিকে পারি দৌড় লাগালাম৷ বেচারা দিলীপ গাছে বসে মনে মনে আমাদের গালাগাল করছে।

আসলে হয়েছিল কি, সেই যে মাঠের চারটে কফি হাউস, অন্য এক হাউসও সেদিন ঠিক করেছিল পালেদের ডাবচুরি করবে৷ এরপর তাদের দলের গেছো বাবলু গাছে উঠতে লাগল৷

আমরাতো পগারপার৷ বাবলু যখন গাছের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে তখন দীলিপ তার একটা পা ঝুলিয়ে বাবলুর মাথায় ঠেকালো৷ "ওরে বাপরে ভু ........ত" বলে বাবলু তখন সটান নীচে৷

তবে তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে নামার মত বাবলু গাছ ছাড়ে নি তাই রক্ষে৷ ছেঁড়া-ছেঁড়ি রক্তপাত হয়েছিল কিন্তু বাবলুর হাত-পা ভাঙে নি৷

এর পর কি হল? যা হয় মাঠের আড্ডায় একে অপরকে দোষারোপ, রাগারাগি, আভিমান৷ তবে এর পরও বন্ধুরা ডাব চুরি করতে ছাড়ে নি৷

জামাই ধোলাই

#জামাইষষ্টি#

জামাই ষষ্টিতে গিয়ে শ্বশুর বাড়ীর লোকের হাতে উত্তম-মধ্যম মার খেয়ে বাড়ি ফিরতে হবে কোনও জামাই ভাবতে পারে? অথচ এমনটাই হল আমাদের পাড়ার জয়দেবের সাথে৷ আপনি হয়ত চিনতে পারেন জয়দেবকে৷ সে বাসস্ট্যান্ডে শোনপাপড়ী বিক্রি করে৷

বাবা মারা যাবার পর স্কুলের পাঠ চুকিয়ে অনেক ঘাটের জল খেয়ে জয়দেব এখন বাসস্ট্যান্ডের হকার৷ তার সংসার বলতে বৃদ্ধ মা৷ বাড়ি বলতে মাটির একটা ছিটেবেড়া ঘর৷ আর শয়্যা বলতে ছেঁডা কাঁথার মাটির বিছানা৷

শোনপাপড়ি বিক্রির কারবারটা ভালো জমতে সে সংসারটা একটু সাজানোর চেষ্টা করল। একটা আলমারি, নতুন বাসনপত্র তার সঙ্গে সে একটা তক্তপোষ কিনল যাতে আর মাটিতে শুতে না হয়৷ এর পিছনে আরও একটা কারন ছিল, সেটা তার বিয়ে ৷ বৃদ্ধ মা আর রান্না করতে পারছে না৷

সাদাসিধা জয়দেব কে পাড়ার সবাই হাঁদা ভোঁদা বলত৷ অমানুষিক পরিশ্রম করতে পারলেও তার আধুনিক বুদ্ধিসুদ্ধির অভাব ছিল৷ আর ছিল ভীষন ভীতু৷

বিয়ে আসন্ন, কিন্তু জয়দেবের লজ্জাজনক এক সমস্যা হচ্ছে৷ এত শখ করে সে তক্তপোষ কিনল, অথচ তাতে ঘুমোতেই পারছে না৷ ঘুমের ঘোরে রোজই সে তক্তপোষ থেকে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে৷ কাউকে বলতেও পারছে না৷ রোজই ভাবে ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু রোজই ঘুমের ঘোরে মাটিতে পড়ে যায়৷ যাইহোক, ব্যাপারটা চেপে গিয়েই সে বিয়ের পিড়িতে চেপে বসল৷

নতুন বউ আসার পর ফুলশয্যার রাতে বউকে সব খুলে বলল সে৷ জয়দেবের বউ হেসে অস্থির৷ তবে সেও তো গরীব ঘরের মেয়ে, বাপের ঘরে তক্তোপোষ থাকলেও মাটিতে শোয়া তার অভ্যাস আছে৷ তাই ফুলশয্যাটা মাটিতেই হয়ে গেল৷

মাঝে মাঝে দুজনে তক্তোপোষে ঘুমানোর চেষ্টা করে। মাঝরাত্রে জয়দেব কিন্তু মাটিতে৷ স্বামীর এই মুদ্রাদোষের কথা নতুন বউ লজ্জায় কাউকে বলতে পারল না৷

বৈশাখ মাসে বিয়ের পর কিছুদিনের মধ্যেই জামাইষষ্টি এসে গেল৷ জয়দেব বউকে নিয়ে আর পাঁচজনের মত শ্বশুর বাড়ি গেল প্রথম জামাই আদর খেতে৷

শাশুড়ি সাধ্যমত জামাই আদর করলেন। জয়দেবের শ্বশুরবাড়ির অবস্থাও ভালো নয়৷ তাদেরও ছিটেবেড়া দেওয়া দু-কামরার মাটির ঘর৷ রাত্রিতে মেয়ে জামাইকে একটা ঘর ছেড়ে দিয়ে, শালা, শালিরা অন্য ঘরটিতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ি দুয়ারে বিছানা করে শুয়ে পড়লেন৷

এদিকে জয়দেবের বউ চিন্তায় আছে৷ স্বামী যদি রাত্রে তক্তোপোষ থেকে মাটিতে পড়ে যায় তাহলে লজ্জার শেষ থাকবে না ৷ তাই সে রাত্রিবেলা জয়দেব ঘুমিয়ে পড়লে খুব সম্তর্পনে নিজের কাপড়ের আাঁচলটা দিয়ে জয়দেবকে বেঁধে ফেলল৷ যাতে স্বামী পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেই তার ঘুম ভেঙ্গে যায়৷

তবে ঘটনা যে অন্যকিছু ঘটবে তা নববধু আঁচ করবেই বা কি করে৷ সবদিনের মত জয়দেব যথারীতি বিছানা ছেড়ে মাটিতে৷ আর ঘুমন্ত বউ এর গলায় কাপড়ের আাঁচল ফাঁস হয়ে আটকে গেল৷

মেয়ের গোঁঙানির আওয়াজ শুনে জয়দেবের শ্বশুর বাডীর লোকজনের ঘুম ভেঙ্গে গেল৷ অস্বাভাবিক আওয়াজে শঙ্কিত হয়ে তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকল৷ জয়দেব তখনও বিছানার নিচে ঘুমিয়ে আছে ৷ তারা ভবল জামাই বোধহয় মেয়েকে খুন করার চেষ্টা করছে ৷

জয়দেবের বউ এর শ্বাস-প্রশ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে৷ দ্রুত গলার ফাঁস খুলে জয়দেবের শাশুড়ি, শালীরা তার জ্ঞান ফেরাতে তৎপর হল৷ অন্যদিকে জয়দেবের ঘুম ভাঙ্গল শালা,শ্বশুরের মারের চোটে৷ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেধড়ক মার খেয়ে জয়দেব কোনও রকমে ছুটে শ্বশুর বাড়ী থেকে পলায়ন করল৷

মেয়ের জ্ঞান ফেরার পর সবাই যখন আসল ঘটনা শুনল, জয়দেব তখন গভীর রাতে হেঁটে হেঁটে বাড়ির পথে৷ গা-গতর ব্যাথা করে ভোরবেলা সে বাড়ী ফিরে এসেছিল ৷ জয়দেব জীবনে আর শ্বশুরবাড়ী যায় নি৷

ফোনের বিড়াম্বনা

#স্মার্টফোন!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!#

সুফলবাবু তেমনই একজন যাঁর কাছে এখনো সেই আদ্দ্যিকালের সাদা-কালো নোকিয়া ফোন ৷ তিনি ভুগোলের বর্ষিয়ান শিক্ষক৷ কিন্তু মাধ্যমিক পর্য়ন্ত প্রায় সব বিষয়ের ক্লাস নিতে পারতেন৷ স্কুল অন্তঃপ্রান৷ সারাদিন ক্লাস নিতে হলেও বিরক্ত হন না৷

সেদিন বেশ কয়েকজন শিক্ষক স্কুলে আসেন নি৷ প্রধান শিক্ষক ক্লাস পরিচালনা করতে হিমসিম খাচ্ছেন৷ সকাল থেকে সুফলবাবুর পাঁচটি ক্লাস নেওয়া হয়ে গেছে৷ ষষ্ঠ পিরিয়ডে দশম শ্রেণীর গণিতের ক্লাস৷ প্রধান শিক্ষক দশম শ্রেণীর ছাত্রদের বলে দিলেন তোদের ছয় পিরিয়ড টা হবে না৷

এদিকে পাঁচ পিরিয়ডের ক্লাস নিয়ে ফিরে সুফলবাবু যখন দেখলেন দশম শ্রেণীর ক্লাস অফ যাচ্ছে, তখন নিজে থেকেই প্রধানশিক্ষকে বলে দশম শ্রেণীর ক্লাসে চলে গেলেন৷

অন্যদিকে দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস হবে না জেনে ক্লাসের মধ্যে যত্র-তত্র বসে মহানন্দে গল্পগুজব আরম্ভ করেছে৷ গুটিকয় ছেলে হাই বেঞ্চের উপর বসে স্মার্টফোনে চোখ রেখে বসে আছে৷ যদিও স্কুলে ফোন আনা নিষেধ৷

এই পরিস্থিতিতে সুফলবাবু দুম করে ক্লাসে ঢুকে পড়লেন৷ ছাত্র-ছাত্রীরা হুডমুড় করে যে যার শীটে বসতে গেল৷ স্মার্টফোন দেখা ছেলেরা ভয়ে ফোন ফেলে রেখেই যে যার শীটে বসে গেল৷

তরুন বাবু ফোনটা তুলে নিলেন৷ ফোন তখনও চলছে৷ আর তাতে যে ভিডিও চলছে তা তরুনবাবু কোনদিনও দেখেন নি!

এর পরের অবস্থা আরও শোচনীয় ৷ না পারছেন বন্ধ করতে, না পারছেন দেখতে, অল্প সাউন্ডও বের হচ্ছে৷

এখানে ওখানে টিপেও যখন বন্ধ হল না তখন লজ্জায় ফোনটা নিয়ে ক্লাসের বাইরে চলে এলেন৷

যোগব্যায়াম

#পদ্মাসন#

লিখতে ইচ্ছা করছিল না। কিন্তু যোগ নিয়ে এমন উদ্দীপনায় যোগ না দিয়ে থাকতে পারলাম না। একটা ঘটনা লিখতে খুব ইচ্ছা হল। আমাদের পাড়ার কালিখুড়ো paralytics রোগাক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। চলাফেরা করতে পারছেন না। ডাক্তারের নিদান ব্যায়াম করতে হবে। কালিখুড়ো বয়স্ক মানুষ। বাম পা শক্ত হয়ে গেছে। ভাঁজ করতে পারছেন না। অথচ ডাক্তার তাকে পদ্মাসন করতে বলেছেন। অনেক চেষ্টা করেও ব্যায়ামটা করতে না পেরে পড়ার কয়েকটা বখাটে ছেলের সাহায্য চাইলেন। আকাট আনাড়ি ক্যাবল গেল খুড়োকে সাহায্য করতে। কালিখুড়োর অসাড় বাম পা জোর করে ডান পায়ের উপর তুলে দিতেই মাটাং করে শব্দ। ব্যাস পদ্মাসন সম্পুর্ণ। এরপর? সে আর কি বলব। পা প্লাস্টার করে খুড়োর শয্যালাভ।

লজ্জার কথা

#নাটক#

মুখবন্ধ : অমল সেন ও রচনা রায় নামে দুজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা। উচ্চ মাধ্যমিকে 50% নম্বর নেই। তাই রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক পড়ছেন। এই সপ্তাহ থেকে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা হল থেকে বেরিয়ে। দুজনের কথোপকথন।

আমল: কেমন হল? 50% হবে তো?

রচনা: গন্ডগোল হয়ে গেছে, সায়ার পকেটে যে মাইক্রো জেরক্সগুলো রেখেছিলাম সেগুলো বের করতেই পারি নি! কাপড় খুলে যাবার যোগাড়।

অমল: সেকি...... তাহলে লিখলেন কি করে?

রচনা: ব্লাউজের ভেতর আর শাড়ির ভাঁজে.......!!

অমল: আর বলবেন না, আমি আর মাইক্রো করি নি। বই-এর পাতা কেটে সাইজ করেছি।

রচনা : ইংরেজি কেমন হয়েছে..... পাশ হবে?

অমল: একটা ইংরেজি কাগজ এনেছিলাম, সেটাই টুকেছি।

রচনা: ঠিকই করেছেন, স্যার বলেছেন খাতা ভর্তি করে আসতে। আচ্ছা আপনার সাথে কত-র কথা হয়েছে?

অমল: আমিতো দশের বেশী দেব না বলেছি।

রচনা: আমিতো সাত বলেছি, দেখা যাক।

টুকলি কান্ড

#ছাত্রশ্রী#

পরীক্ষায় কম-বেশী টুকলী আগেও ছিল, এখনও আছে৷ নবম শ্রেণীর তমাল, দামাল ছেলে৷ টুকলী করেই সে এতদুর এসেছে৷

স্কুলের বাৎসরিক পরীক্ষার প্রথম দিন৷ বেচারামবাবু গার্ড দিচ্ছেন৷ তামালের চঞ্চল ভাব দেখে শিক্ষক মহাশয়ের সন্দেহ হল৷ বেচারাম বাবু বললেন, ‍‌‌"দেখ্ তমাল যদি কিছু এনে থাকিস, তাহলে ভালোয় ভালোয় আমাকে দিয়ে দে৷ যদি হাতে নাতে ধরি, তাহলে তোর পরীক্ষা বাতিল করে দেব৷" তমাল বিনয়ের সাথে অস্বীকার করল৷

পরীক্ষা ঘন্টাখানেক গড়াতেই তমালের দম শেষ৷ টুকলী দেখা ছাড়া উপায় নাই৷ স্যারও তক্কে তক্কে আছেন৷ যথারীতি তমাল হাতে নাতে ধরা পড়ল৷ স্যার বললেন সব বের করে দে৷ তমাল বলল আর নেই৷ স্যার জোরপূর্বক তমালের প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে এক তাড়া নোটের বান্ডিল বের করলেন৷ ঐ পরীক্ষায় ৫ নম্বর জরিমানা দিয়ে সে যাত্রা তমাল বেঁচে গেল৷

দিন কয়েক পর তমালের রুমে আবার বেচারামবাবুর গার্ড পড়ল৷ স্যার দেখলেন তমাল আজ চুপচাপ৷ পরীক্ষা শুরু হল৷ সেদিন সবাই চুপচাপ লিখে গেল৷ পরীক্ষা শেষ হতে আর আধ ঘন্টার মত বাকী৷

এমন সময় তমাল আবার উস-পাশ করতে লাগল৷ ভাব দেখে স্যারের মনে হল তমাল আবার টুকলী করছে৷ সন্দেহ নিরাসনের জন্য স্যার সেদিনের মত তমালের পকেট হাত ঢুকিয়ে তল্লাশী করতে গেলেন৷

বেচারামবাবু ভাবতেও পারেন নি কি ঘটতে পারে, তল্লাশী চালাতে গিয়ে যেখানে স্যারের হাত পড়ল সেটা আরা ভাষায় না লিখলেও চলবে৷ শুধু এটুকু বলি, তমাল প্যান্টের পকেটটা ব্লেড দিয়ে কেটে রেখেছিল৷ আর ভেতরেও কিছু পরে নি৷

এর পর........................না তমাল ছাড় পেয়েছিল৷

ডানপিটের গল্প

### হ্যাবলার ভি.ডি.ও দেখা ###

এই সেদিনও প্রত্যন্ত গ্রামে ঘেরা জায়গায় টিকিট করে বা খোলা মাঠে বিনা পয়সায় ভি.ডি.ও-তে সিনেমা হত। কেউ কেউ গ্রুপ করে বা ব্যক্তিগত ভাবেও ভাড়া করেও সিনেমা দেখত৷

আলাদা করে পছন্দমত সিনেমা দেখবে বলে
সেবার পাড়ার কয়েকজন ছেলে ভি.ডি.ও. ভাড়া করলো৷ গরমের জন্য তারা দোতলা বাড়ীর ছাদে খোলা আকাশের নীচে সিনেমা দেখবে। আমাদের পাড়ার হ্যাবলা কি করে সেই খবর পেয়ে গেল৷ তার ভিডিও দেখার বিরাট নেশা৷ কিন্তু হ্যাবলা কে ঐ ছেলেরা দলে নিল না। এক প্রকার অপমান করে তাড়িয়ে দিল।

হ্যাবলাও ছাড়ার পাত্র নয়৷ রাত্রি গভীর হতেই সে চুপিসারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল৷ যে বাড়ীর দোতলার ছাদে ভি.ডি.ও. হচ্ছিল তার পাশে ছিল খুব লম্বা এক তেঁতুলগাছ৷ হ্যাবলা চুপিসারে সেই গাছে চড়ে বসল৷ সবাই যখন দোতলা ছাদে বসে নিশ্চন্তে ভি.ডি.ও. দেখছে৷ হ্যাবলা তখন তেঁতুলগাছে বসে সিনেমার মজা নিচ্ছে৷ কেউ জানতেই পারল না৷ কিন্তু কি হল কে জানে, হঠাৎ তেঁতুলগাছের ডাল হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ল৷ যন্ত্রনার চিৎকার যখন সবার কানে এল তখন হ্যাবলা গাছের নীচে৷ এর পর ডাক্তার, ঔষধ ইত্যাদি ইত্যাদি৷

আমি হ্যাবলাকে দেখতে গিয়ে জীজ্ঞাসা করলাম-“কি দরকার ছিল গাছে উঠে সিনেমা দেখার৷ এই তো গাজন মেলাতে দেখলি”৷ সে চুপি চুপি আমাকে বলেছিল- “আসলে ভি.ডি.ও দোকান থেকে খবর পেয়োছিলুম ওরা একটা ডবল A মার্কা ক্যাসেট এনেছে, সেটা দেখব বলেই তেঁতুলগাছে উঠেছিলুম৷”

ভালো মানুষের গল্প

[ সৎ মানুষ দেখতে চান,তাহলে পড়ুন]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
$ সার্থক ভ্রমন $
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
জানাশোনা গন্ডির মধ্যে সৎ মানুষকে দুরবীন দিয়ে দেখতে হয় ৷ হতাশ হয়ে ভাবি দুনিয়াতে সততা কল্পনা মাত্র ৷ আমাদের জানাশোনা গন্ডি বলতে বাংলা আর বাঙালী ৷ আর আজকের বাঙালী "হায় বাঙালী হায়, তুই আর বাঙালী নাই"৷

বাংলার বাইরে চোখ মেলার ইচ্ছা নিয়ে ভ্রমনে গিয়েছিলাম ভাইজাক। একরাশ উৎকন্ঠা নিয়ে ইস্ট-কোষ্ট এক্সপ্রেস থেকে রাত্রিতে নামলাম বিশাখাপত্তনম স্টেশনে৷ দেবদূতের মত এক ড্রাইভার এসে হাজির৷ পৌঁছে গেলাম হোটেলে৷

সকাল হতেই ড্রাইভার ছেলেটা এসে হাজির, সঙ্গে গাড়ীর মালিক ৷ দুদিন ধরে সব সাইডসিন দেখিয়ে দেবে৷ রেট জানিয়ে ফোন নং দিয়ে গেল৷ দু-এক জায়গায় যাচাই করে দেখলাম, রেট প্রায় সবারই এক৷ শেষ মেষ তাদেরকেই ফোন করে ডেকে নিলাম ৷

ড্রাইভারটা প্রায় তিন দিন নিকট আত্মীয়র মত আমাদের সঙ্গ দিল৷ কোথায় সবথেকে ভাল ইডলি ধোসা পাওয়া যায় সেখানে নিয়ে যাওয়া, খাওয়ার জল এনে দেওয়া, বিশাখাপত্তনম বন্দরে গিয়ে মাছ কিনে দেওয়া, এমনকি একজন বাঙালী লোকও খুঁজে দিল৷ মাছ আর তেল কিনে দিতে সেই বাঙালী ভদ্রলোক বাড়ী থেকে মাছ ভাজা করে এনে দিলেন৷ রাত্রিতে আমরা শুতে গেলে তারপর সে বাড়ি যেত৷

বিবেকের তাড়নায় দ্বিতীয় দিনে তাকে জিঞ্জাসা করলাম ভাইসাব আমরা আপনাকে এত খাটাচ্ছি, নিজেদের খারাপ লাগছে৷ সে বলল - কোনও ব্যাপার নয়, সে খুশী মনেই করছে৷ তবু মনটা খুঁত খুঁত করতো ৷ আমাদের সাথে খেতে বললেও খায় না৷ দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় সে বলল "দাদা গাড়ীর তেলটা একটু কম আছে কিছু পয়সা দিন তেলটা ভরে নিই৷ পরে ভাড়া থেকে বাদ দিয়ে দেবেন"৷ সরল মনে দিয়েও দিলাম৷

সূচিমত বেড়ানোর সময় শেষ৷ ড্রাইভার আমাদের স্টেশনে নামিয়ে দিল৷ আমি তাকে ৫০০ টাকা বকশিস দিতে গেলাম৷ সে আমাকে অবাক করে বলল "ইতনা জাদা নেহি , ২০০ রুপিয়া দে দিজিয়ে"৷ অবাক হয়ে গেলাম৷ আমি ২০০ টাকাই দিলাম৷ সে হাসি মুখে চলে গেল৷

লেখাটা একানেই শেষ হতে পারত, কিন্তু অবাক হবার পালা এখনও বাকী ছিল৷ বিশাখাপত্তনম স্টেশানে বসে আছি ৷ নির্ধারিত সময়ের ট্রেন আসতে এক ঘন্টার মত বাকী৷ তখন মনে পড়ল এই রে, চুক্তিমত গাড়ী ভাড়া তো দিয়েছি, কিন্তু রাস্তায় তেল ভরতে যে ৫০০ টাকা দিয়েছিলাম সেটা তো বাদ দেওয়া হয় নি৷

সঙ্গী সাথীরা সবাই আমার বোকামোর জন্য ধিক্কার দিতে লাগল৷ আমি সত্যিই বোকা৷ নিজেরও খারাপ লাগতে লাগল৷ কারন ট্যুরের ম্যানেজার আমি৷ আমি বোকার মতই গাড়ীর মালিককে ফোন লাগালাম৷ তিনি আমাদের ট্রেনের সময় ও প্লাটফর্ম নং জেনে নিলেন৷

ট্রেন আসার ঠিক আগের মুহুর্তে মালিক নিজে এসে আমাদের ৫০০ টাকা ফিরে দিয়ে গেলেন৷ ট্রেন এসে গেল৷ ফিরে এলাম কলকাতায়৷ বেড়ানোর স্মৃতি ছাপিয়ে সেই ড্রাইভার ও গাড়ি মালিকের স্মৃতি আমার মনের মনিকোঠায় সারা জীবনের জন্য রয়ে গেছে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ব্যর্থতার গল্প

এই লেখার শুরুতেই আসুন পরিচয় করিয়ে দিই শুভঙ্কর পন্ডিতের সঙ্গে৷ শুভঙ্কর আমাদের স্কুলের একমাত্র প্রতিবন্ধী ছাত্র৷ ভালো করে হাঁটতে পারে না৷ পঞ্চম শ্রেণীতে যেদিন সে স্কুলে ভর্তি হয়েছিল সেদিন তার উপর মায়া পড়ে গিয়েছিল৷

চরম দরিদ্র পরিবারের ছেলে সে৷ সুযোগ থাকায় মানবিকতার খাতিরে প্রধানশিক্ষকে বলে ওর মা কে মিড-ডে-মিলের রাধুঁনির কাজ পাইয়ে দিয়েছিলাম৷

তার পর কতগুলো বছর কেটে গেছে৷ নিয়মমাফিক প্রতিবন্ধী হিসাবে শুভঙ্কর যাতে সরকারি সাহায়্য পায় তার ব্যবস্থা করেছি, সর্বশিক্ষা মিশন শুধুমাত্র ওর জন্যই প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করে বিশেষ বাথরুম করে দিয়েছে৷ কিন্তু শুভঙ্কর পারে নি, ২০১৬ সালে মাধ্যমিকে সে ফেল করেছিল ৷ ২০১৭ তে আবার সে পরীক্ষা দেবে।

পড়াশোনা না করলেও স্কুলে আসার ভীষন আগ্রহ শুভঙ্করের ৷ সে আবার স্কুলে আসতে চায়৷ নিয়মমত নিয়মিত ক্লাসে সে থাকতে পারবে না৷ তবে দারিদ্র প্রতিবন্ধী ছাত্রের প্রতি দয়াবশত তাকে প্রতিদিন স্কুলের মিড-ডে-মিলে খেয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল৷

খাওয়ার সময়ে আসার কথা বলা হলেও শুভঙ্কর বেশীরভাগ দিন দশটাতেই এসে হাজির৷ শ্রেণী কক্ষে না ঢুকে সে স্কুলের বটতলায় বসে থাকত৷ আমি বরারই দরিদ্র মেধাবীদের সাহায্য করে এসেছি৷ তাই তাকে নিয়ে আমারও মাথাব্যাথা ছিল না৷ যথারীতি শুভঙ্কর ২০১৭ সালের মাধ্যমিকেও ফেল করল৷

তাহলে আজ শুভঙ্করের কথা ভাবছি কেন?

স্কুলে এখনও একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি চলছে৷ গত কাল শুভঙ্করেরর মা করুন মুখে এসে বলল, স্যার আমার ছেলেটা ভর্তি হবে না ? কি উত্তর দেব ভেবে পেলাম না৷

অষ্টম পর্যন্ত ফেল না থাকলেও নবমে আমাদের বিদ্যালয়ে কিছু ছাত্রকে আটকে রাখা হয়৷ তবে দ্বিতীয়বার ফেল করলে তাকে দু-বছর থাকার কারনে প্রমোশন দিয়ে দেওয়া হয়৷

সেই নিয়মের দাবী নিয়েই শুভঙ্করের মা আমার কাছে এসেছিল ছেলেকে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি করতে৷ আমি তাকে বোঝালাম সেটা সম্ভব নয়৷ কিন্তু সে বুঝলো না৷ বার বার একই অনুরোধ করতে লাগল৷ বিরক্ত হয়ে কিছুটা দূর্ব্যাবহার করে ফেললাম৷

তখন থেকে বিবেকটা আমাকে কেবলই প্রশ্ন করছে৷ লেখাপড়া না জানা এক মায়ের কাতর আবেদনে অজ্ঞতা থাকলেও দোষ কি ছিল ? শুভঙ্করের এই ব্যর্থতা শুধুই কি তার? সে নিজের নামটাও ভালো করে লিখতে পারে না! মনে পডে, রেজিষ্ট্রেশন ফর্মে শুধু সইটা করতে গিয়ে তিনটে ফর্ম নষ্ট করেছিল সে ৷

তাহলে এতগুলো বছর ধরে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক কত শিক্ষকের হাত ঘুরে, প্রতিবন্ধী ছাত্র বৃত্তি খরচ করে আমরা শুভঙ্করকে সইটা পর্য়ন্ত শেখাতে পারি নি! এ লজ্জা কি শুধুই শুভঙ্করের?

খুড়োর ডাইরি

### খুড়োর চৈতন্য ##

জগাই-মাধাই কে জানেন? তারা মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অত্যচার করত। নিত্যানন্দের প্রভু জগাই মাধাই কে সৎপথে আনতে সঙ্গী সাথী নিয়ে তাদের বাড়ির কাছে গিয়ে কীর্তন শুরু করলেন। জগাই-মাধাই একটি কলসির কানা দিয়ে নিত্যানন্দের মাথায় আঘাত করল। শেষ পর্য়ন্ত নিত্যানন্দ প্রভু তাদের ক্ষমা করলেন, তাদেরকে বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করলেন। ভক্তগণ সমস্বরে বলে উঠলেন, ‘হরিবোল’ ‘হরিবোল’।

শিবতলায় কীর্তন আসরে এই কাহিনী শুনে আমাদের খুড়ো ঠিক করলেন পাড়ার মাতালদের সংশোধন করতে হবে৷ পাড়ার সেরা মাতাল নোলে ও পেলে৷ নোলে আর পেলে মদ খেয়ে বউকে পেটায়৷ বৌমাদের চোখের জল দেখে খুড়োর খুব কষ্ট হয়৷

যাই হোক, খুড়ো নোলে-পেলে কে সৎপথে আনার জন্য একটা হরিনামের দল ভাড়া করলেন৷ নোলে-পেলে সেদিন জগাই-মাধাই এর মতই সারারাত মদ খেয়ে দিবানিদ্রায়৷ খুড়ো হরিনামের দল নিয়ে তাদের দরজার সামনে কীর্তন আরম্ভ করলেন৷ খুড়ো ভেবে রেখেছিলেন কলসীর কানা না হোক কাঁচা কাঁচা খিস্তি শুনতে হবে৷ আর খিস্তি শুনতে হবে বলে হরিনামের দলকে বেশী পয়সা দিয়েছিলেন৷

একসময় নোলে আর পেলে টলতে টলতে বেরিয়ে এল৷ বেরিয়ে এসে তারা রেগেও গেল না, খিস্তিও দিল না৷ নোলে খুড়োর কানে চুপি চুপি কিছু বলল৷ খুড়ো আবার হরিনাম দলের ম্যানেজারের কানে কানে কিছু বললেন৷ হরিনাম থেমে গেল৷

এরপর খুড়ো বৌমাদের ডেকে বললেন, মা, আজ তোমাদের ঘরে খাওয়া দাওয়া হবে৷ আমি টাকা দিচ্ছি, পেলে বাজার যাচ্ছে, তোমারা রান্নার আয়োজন করো৷ বউ দুজন কিছুই বুঝতে পারল না৷ পেলে বাজারে গেল।

রান্না হল৷ খাওয়া দাওয়া হবে৷ হরিনামের দল গেছে পুকুরে স্নান করতে৷ নোলে-পেলেও গেছে তাদের সঙ্গে৷ প্রায় এক ঘন্টা পর তারা সবাই ফিরে এল৷

এবার খেতে বসার পালা৷ সবাই এক সাথে খেতে বসল৷ খেতে বসে খুড়ো মদের গন্ধ পাচ্ছে৷ তার মানে নোলে-পেলে আবার গিলেছে৷ খুড়ো মনে মনে খুব রেগে গেলেন। ভোজন পর্ব সারা হতে হরিননামের দল গেল শয়নে।

আসলে তখন খুড়োকে তাদের বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজনের প্রস্তাব দিয়েছিল নোলে? তবে সব খরচ খুড়োর৷ বিনিময়ে আর কোনও দিন মদ খাবে না। কিন্তু খুড়ো বুঝতে পারল শালারা মিথ্যা কথা বলে তার সাথে প্রতারণা করেছে।

খুড়োর এই সব চিন্তায় ছেদ পড়ল হরিনামের দলের খোল-খত্তালের আওয়াজে৷ খুড়ো কৌতুহল মেটাতে গিয়ে দেখল, নোলে খোল বাজাচ্ছে, আর পেলে খত্তাল বাজাচ্ছে ৷

তাদের কাছে গিয়ে খুড়োর চৈতন্য হল। বুঝতে পারলেন নোলে-পেলে মদ খায় নি, কিন্তু হরিনামের দল মদ খেয়ে দিবানিদ্রায় নাক ডাকাচ্ছে৷ খুড়োর আক্কেল গুড়ুম। নোলে-পেলে বেতালে, বেসুরে গেয়ে চলেছে "হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল "।

[খুড়োর ডাইরি কাল্পনিক রম্যরচনা। বিশেষ
কারনে আমার কলমটা ভোঁতা। দেখি এটা কার কার ভালো লাগে।]