Tuesday, 18 September 2018

## আমি পেলাম লটারী ##
বুয়লেন, অলি-গলিতে লটারীর টিকিট বিক্রি দেখে মনটা প্রায়ই উচাটন হয়৷ হাতটা সুড়সুড় করে কিন্তু কাটা আর হয়ে ওঠে না৷ সেদিন বাজারে গেছি, দেখি ফুটপাতে রঙিন ছাতা লাগিয়ে লটারীর টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সামনে একটা বড় ব্যানার, তাতে লেখা আছে, "এই দোকানের বিক্রীত টিকিটে উঠল প্রথম পুরস্কার ৩৫ লক্ষ টাকা৷"
বুয়লেন, মনটা খারাপ হয়ে গেল, সংসারের নানা কাজে আমার অপদার্থ ডিগ্রী আছে ঠিকই তা বলে এতটাও অপদার্থ নই যে একটা লটারীর টিকিট কাটতে পারব না! মনে মনে ভাবলুম, যদি কেটে রাখতুম! যাক, সে যা হবার হয়েছে, ন্যাড়া একবার বেলতলায় গেলে কোনও দোষ নাই, তাই দুগ্গা দুগ্গা করে একটা বাম্পার কেটেই ফেললুম৷ মনে মনে ভাবলুম, ৩৫ না পাই অন্তত ১৫-২০ পেলেও মন্দ হবে না - কী করব, না করব একটা হিসাবও কষে ফেললুম৷ এদিকে ঘরে জানাজানি হয়ে গেলে সবাই হাসাহাসি করবে তাই টিকিটগুলো প্যান্টের চোরা পকেটে ঢুকিয়ে উৎফুল্ল মনে বাড়ি ফিরলুম।
বুয়লেন, আমার অনেক গুন আছে, তার মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে বাজার করা৷ ধরুন, কাঁচকলা আর বেগুন কিনলুম তারপর দেখলুম সস্তায় ঢ্যাঁড়শ, আর কুমড়ো বিক্রি হচ্ছে - নিলুম ব্যাগ ভর্তি করে৷ ধরুন, আনতে বলেছে পাঁচ ফোড়ন, আমি নিলাম গরম মশলা৷ ফলে যা হবার তাই৷ শব্দ দূষণ৷ কান ঝালাপালা৷ সেদিনও তাই হল৷ বলেছিল আদা, এনেছি রসুন৷ তার উপর করে এনেছি সুক্তো'র বাজার। যুক্তিতে হেরে শেষে নিজের প্রতি নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতে ভুলে গেলুম লটারীর টিকিটের কথা।
তারপর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছি। সারাদিন মাঝে মাঝে লটারীর কথা ভেবে মনটা ফুরফুরে আছে। সকালে তাড়াতাড়িতে টিকিটগুলো গুছিয়ে রাখা হয়নি। গিন্নি যদি দেখে ফেলে সেই নিয়ে একটু টেনশনও ছিল। তাই বাড়ি ফিরেই সাত তাড়াতাড়ি প্যান্টটা খুঁজতে গেলাম। খুঁজে পেলাম না। সহধর্মীনি বলল,"ওটা তো কেচে দিয়েছি।" "আমায় ধন্য করেছ।" না পারি চ্যাঁচাতে না পারি চুপ করতে। রারান্দায় প্যান্ট তখন শুকনো হচ্ছে। চুপিসারে চোরা পকেট থেকে টিকিটগুলো বের করে দেখি একটা কাগজের পিন্ড হয়ে গেছে। নম্বর তো দূরের কথা কোন্ কোম্পানীর টিকিট সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।

No comments:

Post a Comment