## সিস্টেম আপডেট ##
রবীন্দ্রত্তোর বাংলায় বিয়ের আগে ছেলে-মেয়ের দেখা হত ছাতনাতলায়। পরে সিস্টেম 'আপডেট' হল। পাত্র, অ-পাত্র নিয়ে মেয়ের বাড়ি যেতে লাগল। যেটার পোশাকি নাম দেখাশোনা। এখন আবার ইয়ে করে বিয়ের সিস্টেম এসে গেছে। সেই সিস্টেম নাকি অনেক 'ইউজার ফ্রেন্ডলি'। তবে এরপর 'প্রিয়াঙ্কা-নিক'এর বিয়ের সিস্টেম চালু হলে কী যে হবে জানি না!
মেয়ে দেখার জন্য ছেলেরা সর্বদা চুল চুল করে, কিন্তু মেয়েরা সামনে এলেই চুলকে যায়। বিয়ের কথাবার্তা হলে তো কথাই নেই। তাই বোধহয় পাত্র, অপাত্র নিয়ে দেখাশোনায় যায়। আমার অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু বিক্রমও এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম নয়। সরকারি চাকরি করে। বিয়ের বয়স বাউন্ডারি লাইন ছুঁই ছুঁই। 'ধরি মাছ না ছুঁই' করে করে বিক্রম ৩০ তম বসন্তে বিয়ের ফুল ফোটাতে রাজি হল। বিক্রমের দিদি-জামাইবাবুর সাথে দুই বন্ধুতে মেয়ে দেখতে গেলাম।
রবীন্দ্রত্তোর বাংলায় বিয়ের আগে ছেলে-মেয়ের দেখা হত ছাতনাতলায়। পরে সিস্টেম 'আপডেট' হল। পাত্র, অ-পাত্র নিয়ে মেয়ের বাড়ি যেতে লাগল। যেটার পোশাকি নাম দেখাশোনা। এখন আবার ইয়ে করে বিয়ের সিস্টেম এসে গেছে। সেই সিস্টেম নাকি অনেক 'ইউজার ফ্রেন্ডলি'। তবে এরপর 'প্রিয়াঙ্কা-নিক'এর বিয়ের সিস্টেম চালু হলে কী যে হবে জানি না!
মেয়ে দেখার জন্য ছেলেরা সর্বদা চুল চুল করে, কিন্তু মেয়েরা সামনে এলেই চুলকে যায়। বিয়ের কথাবার্তা হলে তো কথাই নেই। তাই বোধহয় পাত্র, অপাত্র নিয়ে দেখাশোনায় যায়। আমার অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু বিক্রমও এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম নয়। সরকারি চাকরি করে। বিয়ের বয়স বাউন্ডারি লাইন ছুঁই ছুঁই। 'ধরি মাছ না ছুঁই' করে করে বিক্রম ৩০ তম বসন্তে বিয়ের ফুল ফোটাতে রাজি হল। বিক্রমের দিদি-জামাইবাবুর সাথে দুই বন্ধুতে মেয়ে দেখতে গেলাম।
এরকম 'ইন্টারভিউ' এ সাধারণত 'কমন' প্রশ্ন থাকে,"কি নাম, কতদূর পড়াশোনা?
কোথায় পড়েছ? কয় ভাই? কয় বোন? ঢ্যাঁক-কুলো, ইস-তিস, হ্যাঁনা-ত্যাঁনা।
আমার আবার ওসব ন্যাকামো আসে না। শুরু করলাম, "আচ্ছা ফুচকা খেতে ভালবাসেন?
ক'টা খেতে পারেন?" মেয়ে সপার্ষদ ফিক্ করে হেসে উঠল। বিক্রম গুঁতো মারল।
মেয়ে বলল, "আমি ফুচকা খাই না"। যা.. চলে। ফুচকাহীন মেয়ে। বিস্মিত হয়ে
বললাম, "আচ্ছা সিনেমা না সিরিয়াল?" উত্তর এল- "সিনেমা"। কী রকম সিনেমা?
বাবা কেন চাকর না পথের পাঁচালী? উত্তর এল-"বাহুবলী!" গান শোনেন? -"শুনি"।
কী ধরনের গান? উত্তর এল-"ডি জে"। ওরেস্ শালা, এ তো আপডেটেড মহিলা। এরকম
হাসি ঠাট্টায় ইন্টারভিউ পর্ব শেষ, পাত্রীর ছবির সাথে মিলিয়ে দেখা গেল,
ছবিতে ময়দা-টয়দা বিশেষ নেই। বিক্রম বলল মেয়ে পছন্দ হয়েছে।
লাজুক স্বভাবের পড়ুয়া ছেলে বিক্রম। ছোটবেলায় 'ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ' মুখস্থ করে মেয়ে দেখলে চিনের প্রাচীর তুলে দিত। অথচ পাত্রী ঠিক হওয়ার পর বিক্রমের বিশ্বামিত্র দশা। সে তখন সুন্দরী কন্যার ছবি নিয়ে কিশোর বয়সের কল্পনায় মজেছে। সকাল সন্ধ্যা প্রেম ভাবনায় ভাবিত। এমন অবস্থায় ব্যাটা সেদিন পাংশু মুখে হাজির। যেন শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফিরেছে। জানতে চাইলাম, "এ অবস্থা কেন বন্ধু? সারারাত কি ফোনালাপ করিয়াছ?" বিক্রম মোবাইলের কল লিষ্ট দেখিয়ে বলল, "দেখ, এই নম্বর থেকে অচিন্ত্য নামের একটা ছেলে ফোন করেছিল। সে এই বিয়ে না করার অনুরোধ করেছে। পাঁচ বছর ধরে নাকি মেয়েটির সাথে তাঁর সম্পর্ক আছে। মেয়েটি আপডেটেড সিস্টেমে যেতে চেয়েছিল, বেকার বলে ছেলেটি রাজি হয়নি, আর একটু সময় চায়।"
লাজুক স্বভাবের পড়ুয়া ছেলে বিক্রম। ছোটবেলায় 'ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ' মুখস্থ করে মেয়ে দেখলে চিনের প্রাচীর তুলে দিত। অথচ পাত্রী ঠিক হওয়ার পর বিক্রমের বিশ্বামিত্র দশা। সে তখন সুন্দরী কন্যার ছবি নিয়ে কিশোর বয়সের কল্পনায় মজেছে। সকাল সন্ধ্যা প্রেম ভাবনায় ভাবিত। এমন অবস্থায় ব্যাটা সেদিন পাংশু মুখে হাজির। যেন শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফিরেছে। জানতে চাইলাম, "এ অবস্থা কেন বন্ধু? সারারাত কি ফোনালাপ করিয়াছ?" বিক্রম মোবাইলের কল লিষ্ট দেখিয়ে বলল, "দেখ, এই নম্বর থেকে অচিন্ত্য নামের একটা ছেলে ফোন করেছিল। সে এই বিয়ে না করার অনুরোধ করেছে। পাঁচ বছর ধরে নাকি মেয়েটির সাথে তাঁর সম্পর্ক আছে। মেয়েটি আপডেটেড সিস্টেমে যেতে চেয়েছিল, বেকার বলে ছেলেটি রাজি হয়নি, আর একটু সময় চায়।"
No comments:
Post a Comment