আজ একটা নাটক লিখলাম। নাটকের নাম-
## চলতি হাওয়া ##
[চরিত্রায়নে: দুই শিক্ষক,স্থান-পাড়ার চা দোকান, সময়-সকাল ৭ টা]
## চলতি হাওয়া ##
[চরিত্রায়নে: দুই শিক্ষক,স্থান-পাড়ার চা দোকান, সময়-সকাল ৭ টা]
[পর্দা উঠলে দেখা যাবে সিগারেটে সুখ টান দিতে দিতে দুই ভিন্ন স্কুলের শিক্ষক আলোচনা করছেন]
-জানেন ছেলেগুলোর মাথায় কিছু নেই৷ একদম পড়াশোনা করে না। ক্লাসে সব সময় হৈ চৈ করে৷ কেন যে স্কুলে আসে জানিনা!
-ঠিকই বলেছেন, বাপ-মা ঘরে সামলাতে পারেনা, তাই স্কুলে পাঠিয়ে দেয়৷ মাষ্টাররা জ্বলে পুড়ে মরুক ! যেমন ছেলেপুলে, তেমন তাদের বাপ-মা।
-শিক্ষাটাকেই শেষ করে দিল! বিনাপয়সায় বই, খাতা, ভাত, পোষাক, ব্যাগ, সাইকেল এমনকি টাকাও পাচ্ছিস্ আর পড়ার বেলায় অষ্টরম্ভা৷
- আপনি তো দেখছেন, এক-দুই-শূন্য সব নাম্বার। নাইনের ছেলে ইংরাজীতে নাম সই করতে পারে না৷
- ইংরাজী কী বলছেন মশাই, বাংলা..... মাতৃভাষা তো, তাতেও... বুজলেন সেদিন আমার বাংলার ক্লাসে একটা ছেলে খুব উসখুশ করছিল৷ টোকে টোকে ছিলাম, দেখি প্রেমপত্র চালাচালি করছে-ধরলুম হাতে নাতে৷ বিশ্বাস করুন কী ভাষা, সে লেখা পড়লে এমনিই প্রেম চটকে যাওয়ার কথা৷
-শাসন, শাসন বুঝলেন শাসন না থাকলে লেখাপড়া হয়? যেমন সিলেবাস হয়েছে, তেমন হয়েছে পরীক্ষার সিস্টেম৷ মরগে যাক...যেমন পাবলিক..... তেমন সরকার৷
- সে যাইহোক, আপনার ছেলের খবর বলুন?
- মেডিকেলের জন্য "আকাশে" ভর্তি করলাম, কোর্স ফী'টা একটু বেশী তবে "মকটেষ্টে" যা রেজাল্ট করছে তাতে লাগিয়ে দেবে মনে হচ্চে৷
- স্কুলে যেতে হচ্ছে নাকি?
- আরে না-না৷ এমনিতেও সময় কোথা পাবে, সকালে গণিতের সমরবাবু আসেন, দুপুরে ফিজিক্সের জন্য একটা ভালো বেকার ছেলে পেয়েছি, আবার সন্ধ্যায় কেমিষ্ট্রির বিমলবাবু৷ আর স্কুলে গিয়েই কি হবে? শুধু শুধু সময় নষ্ট করা৷
- ও বিমলবাবু, সাগরপুর হাইস্কুলের? উনি পড়ান বলে তো জানতাম না?
- ঠিকই জানেন, উনি টিউশান করেন না, তবে আমি তো আবার ওনার ছেলেকে বাংলাটা দেখিয়ে দিই৷ তাই....
- দেখুন না আমার মেয়েকে কত করে বললাম, সরকার ডি এ দেয়নি বলে টাকা পয়সার চিন্তা করিস না মেডিকেলটা আর একবার দেখ- না, সে বলে অনার্স করব৷
- তা কেমিষ্ট্রিতে অনার্স খারাপ নয়, তবে চাকরি-বাকরির যা বাজার- তার উপর শুনছি-দশ-বিশে বিট মরছে- তবে লাইন যদি করতে পারেন......
- সে না হয় প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে সবটা তুলে দিয়ে দেব কিন্তু চ্যানেল করাই তো মুশকিল?
- না, চলুন অনেক দেরী হয়ে গেল৷ আজ আবার স্কুলে শিক্ষক দিবস আছে৷ ছেলেরা আমাদের সম্বর্ধনা-টম্বর্ধনা দেবে৷
- হ্যাঁ, আমাদেরও খেলা-টেলা হবে শুনছি৷ চলুন।
[সমাপ্ত]
-জানেন ছেলেগুলোর মাথায় কিছু নেই৷ একদম পড়াশোনা করে না। ক্লাসে সব সময় হৈ চৈ করে৷ কেন যে স্কুলে আসে জানিনা!
-ঠিকই বলেছেন, বাপ-মা ঘরে সামলাতে পারেনা, তাই স্কুলে পাঠিয়ে দেয়৷ মাষ্টাররা জ্বলে পুড়ে মরুক ! যেমন ছেলেপুলে, তেমন তাদের বাপ-মা।
-শিক্ষাটাকেই শেষ করে দিল! বিনাপয়সায় বই, খাতা, ভাত, পোষাক, ব্যাগ, সাইকেল এমনকি টাকাও পাচ্ছিস্ আর পড়ার বেলায় অষ্টরম্ভা৷
- আপনি তো দেখছেন, এক-দুই-শূন্য সব নাম্বার। নাইনের ছেলে ইংরাজীতে নাম সই করতে পারে না৷
- ইংরাজী কী বলছেন মশাই, বাংলা..... মাতৃভাষা তো, তাতেও... বুজলেন সেদিন আমার বাংলার ক্লাসে একটা ছেলে খুব উসখুশ করছিল৷ টোকে টোকে ছিলাম, দেখি প্রেমপত্র চালাচালি করছে-ধরলুম হাতে নাতে৷ বিশ্বাস করুন কী ভাষা, সে লেখা পড়লে এমনিই প্রেম চটকে যাওয়ার কথা৷
-শাসন, শাসন বুঝলেন শাসন না থাকলে লেখাপড়া হয়? যেমন সিলেবাস হয়েছে, তেমন হয়েছে পরীক্ষার সিস্টেম৷ মরগে যাক...যেমন পাবলিক..... তেমন সরকার৷
- সে যাইহোক, আপনার ছেলের খবর বলুন?
- মেডিকেলের জন্য "আকাশে" ভর্তি করলাম, কোর্স ফী'টা একটু বেশী তবে "মকটেষ্টে" যা রেজাল্ট করছে তাতে লাগিয়ে দেবে মনে হচ্চে৷
- স্কুলে যেতে হচ্ছে নাকি?
- আরে না-না৷ এমনিতেও সময় কোথা পাবে, সকালে গণিতের সমরবাবু আসেন, দুপুরে ফিজিক্সের জন্য একটা ভালো বেকার ছেলে পেয়েছি, আবার সন্ধ্যায় কেমিষ্ট্রির বিমলবাবু৷ আর স্কুলে গিয়েই কি হবে? শুধু শুধু সময় নষ্ট করা৷
- ও বিমলবাবু, সাগরপুর হাইস্কুলের? উনি পড়ান বলে তো জানতাম না?
- ঠিকই জানেন, উনি টিউশান করেন না, তবে আমি তো আবার ওনার ছেলেকে বাংলাটা দেখিয়ে দিই৷ তাই....
- দেখুন না আমার মেয়েকে কত করে বললাম, সরকার ডি এ দেয়নি বলে টাকা পয়সার চিন্তা করিস না মেডিকেলটা আর একবার দেখ- না, সে বলে অনার্স করব৷
- তা কেমিষ্ট্রিতে অনার্স খারাপ নয়, তবে চাকরি-বাকরির যা বাজার- তার উপর শুনছি-দশ-বিশে বিট মরছে- তবে লাইন যদি করতে পারেন......
- সে না হয় প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে সবটা তুলে দিয়ে দেব কিন্তু চ্যানেল করাই তো মুশকিল?
- না, চলুন অনেক দেরী হয়ে গেল৷ আজ আবার স্কুলে শিক্ষক দিবস আছে৷ ছেলেরা আমাদের সম্বর্ধনা-টম্বর্ধনা দেবে৷
- হ্যাঁ, আমাদেরও খেলা-টেলা হবে শুনছি৷ চলুন।
[সমাপ্ত]
No comments:
Post a Comment