### খুড়োর চৈতন্য ##
জগাই-মাধাই কে জানেন? তারা মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অত্যচার করত। নিত্যানন্দের প্রভু জগাই মাধাই কে সৎপথে আনতে সঙ্গী সাথী নিয়ে তাদের বাড়ির কাছে গিয়ে কীর্তন শুরু করলেন। জগাই-মাধাই একটি কলসির কানা দিয়ে নিত্যানন্দের মাথায় আঘাত করল। শেষ পর্য়ন্ত নিত্যানন্দ প্রভু তাদের ক্ষমা করলেন, তাদেরকে বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করলেন। ভক্তগণ সমস্বরে বলে উঠলেন, ‘হরিবোল’ ‘হরিবোল’।
শিবতলায় কীর্তন আসরে এই কাহিনী শুনে আমাদের খুড়ো ঠিক করলেন পাড়ার মাতালদের সংশোধন করতে হবে৷ পাড়ার সেরা মাতাল নোলে ও পেলে৷ নোলে আর পেলে মদ খেয়ে বউকে পেটায়৷ বৌমাদের চোখের জল দেখে খুড়োর খুব কষ্ট হয়৷
যাই হোক, খুড়ো নোলে-পেলে কে সৎপথে আনার জন্য একটা হরিনামের দল ভাড়া করলেন৷ নোলে-পেলে সেদিন জগাই-মাধাই এর মতই সারারাত মদ খেয়ে দিবানিদ্রায়৷ খুড়ো হরিনামের দল নিয়ে তাদের দরজার সামনে কীর্তন আরম্ভ করলেন৷ খুড়ো ভেবে রেখেছিলেন কলসীর কানা না হোক কাঁচা কাঁচা খিস্তি শুনতে হবে৷ আর খিস্তি শুনতে হবে বলে হরিনামের দলকে বেশী পয়সা দিয়েছিলেন৷
একসময় নোলে আর পেলে টলতে টলতে বেরিয়ে এল৷ বেরিয়ে এসে তারা রেগেও গেল না, খিস্তিও দিল না৷ নোলে খুড়োর কানে চুপি চুপি কিছু বলল৷ খুড়ো আবার হরিনাম দলের ম্যানেজারের কানে কানে কিছু বললেন৷ হরিনাম থেমে গেল৷
এরপর খুড়ো বৌমাদের ডেকে বললেন, মা, আজ তোমাদের ঘরে খাওয়া দাওয়া হবে৷ আমি টাকা দিচ্ছি, পেলে বাজার যাচ্ছে, তোমারা রান্নার আয়োজন করো৷ বউ দুজন কিছুই বুঝতে পারল না৷ পেলে বাজারে গেল।
রান্না হল৷ খাওয়া দাওয়া হবে৷ হরিনামের দল গেছে পুকুরে স্নান করতে৷ নোলে-পেলেও গেছে তাদের সঙ্গে৷ প্রায় এক ঘন্টা পর তারা সবাই ফিরে এল৷
এবার খেতে বসার পালা৷ সবাই এক সাথে খেতে বসল৷ খেতে বসে খুড়ো মদের গন্ধ পাচ্ছে৷ তার মানে নোলে-পেলে আবার গিলেছে৷ খুড়ো মনে মনে খুব রেগে গেলেন। ভোজন পর্ব সারা হতে হরিননামের দল গেল শয়নে।
আসলে তখন খুড়োকে তাদের বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজনের প্রস্তাব দিয়েছিল নোলে? তবে সব খরচ খুড়োর৷ বিনিময়ে আর কোনও দিন মদ খাবে না। কিন্তু খুড়ো বুঝতে পারল শালারা মিথ্যা কথা বলে তার সাথে প্রতারণা করেছে।
খুড়োর এই সব চিন্তায় ছেদ পড়ল হরিনামের দলের খোল-খত্তালের আওয়াজে৷ খুড়ো কৌতুহল মেটাতে গিয়ে দেখল, নোলে খোল বাজাচ্ছে, আর পেলে খত্তাল বাজাচ্ছে ৷
তাদের কাছে গিয়ে খুড়োর চৈতন্য হল। বুঝতে পারলেন নোলে-পেলে মদ খায় নি, কিন্তু হরিনামের দল মদ খেয়ে দিবানিদ্রায় নাক ডাকাচ্ছে৷ খুড়োর আক্কেল গুড়ুম। নোলে-পেলে বেতালে, বেসুরে গেয়ে চলেছে "হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল "।
[খুড়োর ডাইরি কাল্পনিক রম্যরচনা। বিশেষ
কারনে আমার কলমটা ভোঁতা। দেখি এটা কার কার ভালো লাগে।]
No comments:
Post a Comment