Friday, 30 June 2017

সত্যি গল্প - 2

#স্বচ্ছ ভারত#

খুড়ো বয়স্ক মানুষ৷ একরোখা, কোনদিন কারও কথা শোনেন নি৷ দেশকে স্বচ্ছ-নির্মল করতে প্রধানমন্ত্রী ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নামছেন ৷ অথচ আমাদের খুড়ো যথারীতি মাঠে, বনে জঙ্গলে শৌচকর্ম করেন৷ তবে সে যে নির্লজ্জ, সেটা বলা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী যদি খুড়োর শৌচক্রিয়ার পদ্ধতি জানতেন, তাহলে অন্তত শৌচাগারের নাম করে কোটি কোটি টাকা মারানি যেত না।

পুরানো দিনের এক বিশাল কাঠের বাঁটের ছাতা নিয়ে খুড়ো খোলা মাঠেই শৌচকার্য করত ৷ সে গ্রীষ্মকাল বা শীতকাল যাইহোক৷ অনেকটা খরগোষের মুখ লুকানোর মতো৷ পাড়ার ছেলে মেয়েরা দেখে হেসে হেসে চলে যেত৷ খুড়ো বলত "এই কালবৈশাখীতে সরকারি শৌচাগার চাপা পড়ে যে কোন সময় মারা যেতে পারিস। একে তো অনুদান 10 হাজার, তার উপর ঠিকাদার-ইঞ্জিনিয়ার-মেম্বর প্যোঁদ মেরে যা করেছে তার থেকে ছাতা অনেক নিরাপদ।"

সে যাই হোক। পঞ্চায়েতের চাই নির্মল পুরষ্কার। তাই পঞ্চায়েত নূন্যতম মজুরীতে কয়েকজন নজরদার নিয়োগ করল। তাদের দ্বায়িত্ব, কে কোথায় বাইরে শৌচক্রিয়া করছে তার খবর সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েতে জানানো৷

এই পরিস্থিতিতে, খুড়ো একদিন বড় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে প্রস্বাব করছিল৷ পঞ্চায়েতের নজরদার এসে হাজির৷ সে বলল "খুড়ো তোমাকে অনেকদিন থেকে বলছি তবু কথা শুনছ না৷ আজ তোমাকে পঞ্চায়েতে ধরে নিয়ে যাবো" । খুড়ো বললো "অনেকদিন থেকে তুইও পঞ্চায়েতের ভয় দেখাচ্ছিস, চল আমি নিজেই যাব পঞ্চায়েতে, তবে দাঁড়া পঞ্চায়েতেই যখন যাবই তখন ভালো করে প্রস্বাবটা করে নিই৷" এই বলে একটু সরে গিয়ে খুড়ো আবার প্রস্বাব করলো।

পঞ্চায়েতে এসে নজরদার খুড়োর অপকর্মের কথা প্রধান সাহেব কে জানালো। প্রধান সাহেব যখন জিজ্ঞাসা করলেন, তখন খুড়ো বললো "শুনুন প্রধান সাহেব আপনার নজরদারই রাস্তার ধারে প্রস্বাব করছিল, ওকে দেখেই আমি করেছি"। নজরদার চীৎকার করে বলতে লাগল "না স্যার ও মিথ্যা কথা বলছে"। খুড়োও দমবার পাত্র নন। দুজনের চেঁচামেচিতে লোকজন জড়ো হল। শেষে প্রধান ঘটনাস্থলে লোক পাঠালেন সরেজমিনে দেখতে।

লোক এসে কি রিপোর্ট আর দেবে? সেটা খুড়ো আগেই লিখে রেখে এসেছে!

No comments:

Post a Comment