Friday, 30 June 2017

গ্রাম্য জীবনের মজা

#ডাবচুরি#

লিচুচোর পড়েছেন৷ আরও কত প্রকার চোর দেখছেন৷ মাঝে মাঝে বৌ এর মানি ব্যাগ থেকে চুরিও করছেন৷ আজ একটা চুরির ঘটনা বলে আপনার কিছুটা সময় আমি চুরি করব৷

ঘটনা টা ডাবচুরির৷ সময়টা এখনের মতই গ্রীষ্মকাল৷ ফুটবল মাঠে খেলার এত ছেলে যে প্রতিদিনই ডার্বি৷ ফুটবলে আমি বাঁশ বনে শেয়াল৷ খেলার শেষে ক্লান্ত হয়ে মাঠের চার প্রান্তে চারটে কফি হাউস৷

আমার হাউস সেদিন ঠিক করল পালেদের গাছে আজ রাত্রিতে ডাব চুরি করা হবে৷ সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি ফেরার নিদান ছিল কিন্তু পুরুষত্ব জাগ্রত করে দিল বন্ধুদের বাক্যবান৷

যাই হোক, রাত্রি নয়টা নাগাদ সদলবলে চললাম আপারেশনে৷ ঘুটঘুটে অন্ধকার৷ গেছো দীলিপ উঠল গাছে৷ আমরা নীচে৷ দীলিপ গাছে উঠে থিতু হয়ে বসেছে এমন সময় কারা টর্চ জেলে ডাবগাছের দিকেই এগিয়ে এল৷

ভাবলাম গাছের মালিক নিশ্চই জানতে পেরেছে। আমরা যারা নীচে ছিলাম যে যেদিকে পারি দৌড় লাগালাম৷ বেচারা দিলীপ গাছে বসে মনে মনে আমাদের গালাগাল করছে।

আসলে হয়েছিল কি, সেই যে মাঠের চারটে কফি হাউস, অন্য এক হাউসও সেদিন ঠিক করেছিল পালেদের ডাবচুরি করবে৷ এরপর তাদের দলের গেছো বাবলু গাছে উঠতে লাগল৷

আমরাতো পগারপার৷ বাবলু যখন গাছের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে তখন দীলিপ তার একটা পা ঝুলিয়ে বাবলুর মাথায় ঠেকালো৷ "ওরে বাপরে ভু ........ত" বলে বাবলু তখন সটান নীচে৷

তবে তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে নামার মত বাবলু গাছ ছাড়ে নি তাই রক্ষে৷ ছেঁড়া-ছেঁড়ি রক্তপাত হয়েছিল কিন্তু বাবলুর হাত-পা ভাঙে নি৷

এর পর কি হল? যা হয় মাঠের আড্ডায় একে অপরকে দোষারোপ, রাগারাগি, আভিমান৷ তবে এর পরও বন্ধুরা ডাব চুরি করতে ছাড়ে নি৷

No comments:

Post a Comment